আমিনবাজারের ময়লার পাহাড়: ১৮ মাসের প্রতিশ্রুতি, ১৬ বছরের অসমাপ্ত হিসাব

আমিনবাজারে ৪২.৫ মেগাওয়াটের নতুন Waste-to-Energy প্রকল্পে ১৮ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা tariff এবং carbon credit-এর সম্ভাবনা সামনে এসেছে। কিন্তু একই landfill-এর পুরোনো environmental damage assessment, waste composition, leachate ও methane management, সরকারি সম্পদের প্রকৃত ব্যয় এবং নতুন প্রকল্পের climate-accounting—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কি মেলানো হয়েছে? ২০১০ সালের আদালত-নির্দেশিত ক্ষতি-নিরূপণ থেকে ২০২৬ সালের নতুন প্রকল্প—১৬ বছরের অসমাপ্ত হিসাব অনুসরণ করে Bengal Gazette-এর অনুসন্ধান।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ হবে, কার্বন ক্রেডিট আসবে—কিন্তু পুরোনো ক্ষতির হিসাব কোথায়?

কপ-৩১ বিশেষ | বেঙ্গল গেজেট

By Abeer Uz Zaman · Bengal Gazette

“বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ হবে, সরকারের বিনিয়োগ লাগবে না, ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে—আর কার্বন ক্রেডিট থেকে মিলবে বাড়তি সুবিধা।”

সাভারের আমিনবাজারের জন্য সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা শুনতে এমনই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু একই জায়গার আরেকটি হিসাব এখনো মেলেনি। ২০১০ সালে আদালতের নির্দেশে পরিবেশগত ক্ষতি-নিরূপণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, ১৬ বছর পরও তার পূর্ণাঙ্গ পরিণতি কোথায়—প্রকাশ্য নথিতে তার স্পষ্ট উত্তর নেই।

একদিকে পুরোনো ভাগাড়ের পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব অসম্পূর্ণ, অন্যদিকে সেই জায়গাতেই ৪২ থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াটের বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২৫ টাকা বলা হচ্ছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে, সিটি করপোরেশনের landfill ব্যবহার করবে এবং প্রকল্পের অর্থনীতিতে carbon credit-ও যুক্ত হবে।

কপ-৩১-এর আগে আমিনবাজার তাই শুধু একটি waste-to-energy project নয়। এটি বাংলাদেশের environmental governance, climate finance, carbon market, public money এবং environmental justice—সবকিছুর একটি বাস্তব পরীক্ষা।


১৮ মাসের নতুন প্রতিশ্রুতি, কিন্তু প্রকল্পের ইতিহাস অনেক পুরোনো

গত ২৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানায়, আমিনবাজারে ৪২ মেগাওয়াটের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীনের একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এবং landfill ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেবে। লক্ষ্য, ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন।

তবে প্রকল্পটির ইতিহাস ১৮ মাসের নয়।

২০২১ সালের নভেম্বরে BPDB, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও চীনের China Machinery Engineering Corporation-এর মধ্যে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট চুক্তি হয়। তখন ক্ষমতা ধরা হয়েছিল ৪২.৫ মেগাওয়াট এবং প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। বিদ্যুতের দাম ছিল প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ২১.৭৮ মার্কিন সেন্ট, তৎকালীন হিসাবে প্রায় ১৮.২৯৫ টাকা।

পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের সময়সূচি পিছিয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে DNCC প্রকল্পের জন্য ৩০ একর জমি হস্তান্তর করে। অর্থাৎ “সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না” কথাটিকে প্রকল্পের পুরো public cost হিসেবে দেখা যায় না। জমি, site development, infrastructure, transmission connection এবং waste-supply ব্যবস্থা—এসবের আর্থিক মূল্যও প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়ের অংশ।


২৫ টাকা ইউনিট: আসল হিসাবটা দীর্ঘমেয়াদি

৪২.৫ মেগাওয়াটের plant যদি গড়ে ৮৫ শতাংশ capacity factor-এ চলে, তাহলে বছরে প্রায় ৩১৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা ধরে শুধু বিদ্যুৎ কেনার সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৯০ কোটি টাকা। ২৫ বছরে তা প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি যেতে পারে।

এটি চুক্তির মোট দায় নয়; capacity factor ধরে করা একটি illustrative calculation। প্রকৃত আর্থিক দায় নির্ভর করবে PPA, tariff escalation, exchange-rate mechanism, minimum offtake, capacity payment ও অন্যান্য শর্তের ওপর।

তবু হিসাবটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে—২৫ টাকা শুধু বিদ্যুতের দাম নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি public financial commitment-এর সম্ভাব্য সূচক। তাই প্রকল্পের পূর্ণ চুক্তি, tariff formula ও সম্ভাব্য মোট দায়ের হিসাব প্রকাশ্য হওয়াই স্বচ্ছতার স্বাভাবিক মানদণ্ড।


বর্জ্য কোথা থেকে আসবে, আর সেই বর্জ্য কেমন?

Waste-to-energy প্রকল্পের সাফল্য plant-এর ক্ষমতার চেয়ে বেশি নির্ভর করে feedstock-এর ওপর—প্রতিদিন কত বর্জ্য আসবে, তার moisture কত, calorific value কত এবং কতটা recyclable বা organic।

প্রকাশিত তথ্যেই এখানে পার্থক্য আছে। কোথাও প্রতিদিন ৩ হাজার টন, আবার পরিবেশগত নথি ও অন্যান্য প্রতিবেদনে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথা এসেছে।

ঢাকার municipal waste নিয়ে গবেষণায় আমিনবাজারের বর্জ্যে প্রায় ৭১–৭২ শতাংশ organic fraction এবং প্রায় ৬২.৭৬ শতাংশ moisture পাওয়া গেছে। একই গবেষণায় net calorific value প্রায় ৬৫৮ kcal/kg-এর মতো কম পাওয়া যায়।

এই combination গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভেজা, organic-heavy বর্জ্য পোড়াতে গেলে প্রথমে বিপুল পানি শুকাতে energy খরচ হয়। ফলে plant-এর net energy output কমে যেতে পারে এবং auxiliary fuel-এর প্রয়োজন বাড়তে পারে।

অর্থাৎ আমিনবাজারের বর্জ্যকে সরাসরি incinerator feedstock হিসেবে ব্যবহার করার আগে seasonal waste characterisation ও calorific-value testing জরুরি। Source segregation ছাড়া mixed municipal waste ব্যবহার করলে প্রকল্পের efficiency এবং অর্থনীতি—দুটিই চাপের মুখে পড়তে পারে।


Waste treatment আর waste burning এক নয়

বাংলাদেশের বাস্তবতায় সব বর্জ্য একসঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা সম্ভবত সবচেয়ে কার্যকর পথ নয়।

Organic fraction composting বা anaerobic digestion-এ যেতে পারে। Recyclable material material-recovery facility-তে আলাদা হতে পারে। Non-recyclable high-calorific residual অংশ RDF বা thermal treatment-এ যেতে পারে। আর পুরোনো landfill-এর methane capture ও leachate treatment আলাদা ব্যবস্থায় করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের Waste Concern-এর composting model দেখিয়েছে, organic waste treatment, resource recovery এবং carbon-market mechanism একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

এটি আমিনবাজারে হুবহু কপি করার প্রস্তাব নয়। বরং শিক্ষা হলো—একটি শহরের সব বর্জ্যের জন্য একই প্রযুক্তি প্রয়োজন হয় না।


২০১০ সালের আদালতের প্রশ্ন এখনো গুরুত্বপূর্ণ

আমিনবাজারে বর্জ্য ফেলা শুরু হয় ২০০৭ সালে। প্রায় ৫২ একর জমির ওপর landfill করার পরিকল্পনা ছিল। JICA-সহ জাপানি সহায়তায় sanitary landfill-এর নকশাও হয়েছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে dumping footprint বেড়েছে। CEGIS-এর satellite analysis-এ ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত landfill expansion-এর চিত্র পাওয়া যায় এবং ২০১৮ সালের মধ্যে footprint প্রায় ৭৩ একরে পৌঁছানোর তথ্য উঠে আসে।

এর অর্থ, বিষয়টি শুধু ময়লা ফেলার নয়। flood-flow zone, drainage, land-use planning এবং groundwater protection-এর সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

BELA-র রিটের পর ২০১০ সালে হাইকোর্ট আমিনবাজারে বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে DNCC-এর আপিলের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ সেই নির্দেশ স্থগিত করে। একই বিচারিক প্রক্রিয়ায় BUET-কে পরিবেশগত ক্ষতি-নিরূপণ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অর্থসংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে মূল্যায়ন শেষ না হওয়ার কথাও সংবাদে এসেছে।

১৬ বছর পরও যদি সেই পূর্ণাঙ্গ damage assessment-এর বর্তমান অবস্থা প্রকাশ্যে পরিষ্কার না হয়, তাহলে নতুন প্রকল্পের environmental baseline নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

কারণ পুরোনো ক্ষতির হিসাব না থাকলে নতুন প্রকল্পের কারণে পরিবেশের উন্নতি হলো, নাকি পুরোনো ক্ষতির ওপর নতুন চাপ যোগ হলো—তা মাপা কঠিন।


“আমি আগে মাছ ধরতাম, এখন ময়লার মধ্যে খুঁজি”

“আমি আগে মাছ ধরতাম। আমাদের পুকুর ছিল, খাল ছিল, জমিতে ধান হতো। এখন প্রতিদিন ট্রাক আসে। পচা পানি যায়। মাছ কমে গেছে, জমিতে আগের মতো ফলন হয় না। এখন ময়লার মধ্যে প্লাস্টিক, বোতল আর লোহা খুঁজি। কাজটা ভালো লাগে না, কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে।”

এই বর্ণনাটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকার নয়। প্রকাশিত মাঠ-প্রতিবেদন, স্থানীয় জীবিকা-সংক্রান্ত তথ্য ও landfill-সংলগ্ন জনগোষ্ঠীর ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি একটি composite human narrative। পরবর্তী মাঠ-অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকার, household survey এবং soil-water testing দিয়ে এটি যাচাই করা হবে।

The Business Standard-এর প্রতিবেদনে আমিনবাজারের আশপাশের মানুষের কৃষি ও মাছভিত্তিক জীবিকার ক্ষতির কথা উঠে এসেছে। The Daily Star-এর প্রতিবেদনে waste picker ও landfill worker-দের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও এসেছে।

এই ক্ষতির অর্থ শুধু পরিবেশগত নয়। কৃষকের জন্য উৎপাদন কমে যাওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি, জেলের জন্য মাছ কমে যাওয়া আয় কমে যাওয়া এবং waste picker-এর জন্য সুরক্ষা ছাড়া কাজ করা occupational hazard।


ভারতের শিক্ষা: plant বানানো আর plant চালানো এক কথা নয়

ভারতের Timarpur waste-to-energy প্রকল্প পর্যাপ্ত calorific value না থাকার কারণে ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে আছে। দিল্লির Okhla প্রকল্প আবার dioxin, furan ও emission standard নিয়ে দীর্ঘ আইনি বিতর্কে জড়িয়েছে।

এসব উদাহরণ incineration অসম্ভব প্রমাণ করে না। বরং দেখায়, feedstock characterisation, source segregation, emission control, ash management এবং continuous monitoring ছাড়া বড় plant-ও প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।

থাইল্যান্ডের Bangkok landfill-gas project-এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নও দেখিয়েছে, landfill methane capture-এর বাস্তব ফল নির্ভর করে কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে gas collection infrastructure তৈরি করা যায় তার ওপর।

আমিনবাজারের ক্ষেত্রেও তাই পুরোনো landfill methane এবং leachate management-এর সঙ্গে নতুন WtE project-কে আলাদা করে দেখলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।


পরিবেশগত ছাড়পত্র: শর্তই আসল

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমিনবাজার প্রকল্পের revised environmental clearance-এর কথাও এসেছে। সেখানে combustion gas-phase-এর minimum temperature আগের ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

এই পরিবর্তন কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। কিন্তু বড় industrial incinerator-এর ক্ষেত্রে operating condition বদলানোর technical basis, emission modelling এবং monitoring arrangement জনসমক্ষে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ Environment Conservation Act, 1995-এর ধারা ১২ অনুযায়ী প্রযোজ্য প্রকল্পের environmental clearance প্রয়োজন। Environment Conservation Rules, 2023 environmental classification ও clearance framework নির্ধারণ করে।

কিন্তু clearance পাওয়া আর compliance নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রকল্প চালু হলে continuous emission monitoring, dioxin-furan control, heavy-metal testing এবং fly ash ও bottom ash-এর নিরাপদ disposal বাস্তবে কতটা কার্যকর—সেটিই হবে environmental governance-এর আসল পরীক্ষা।


কার্বন ক্রেডিট: ঘোষণায় নয়, যাচাইয়ে মূল্য

সরকারি ঘোষণায় carbon credit-কে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কিন্তু carbon credit নিজে কোনো নিশ্চিত আয় নয়। Baseline, additionality, monitoring, validation, verification ও certification ছাড়া emission reduction creditযোগ্য হয় না।

আমিনবাজারে প্রশ্নটি আরও জটিল, কারণ পুরোনো landfill-এর methane emission, নতুন waste combustion এবং electricity generation—তিনটির carbon accounting একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

কোন methodology ব্যবহার হবে, কে independent verification করবে এবং একই emission reduction যাতে একাধিক accounting system-এ দাবি না হয়—এসব পরিষ্কার না হলে carbon revenue-কে প্রকল্পের নিশ্চিত financial benefit হিসেবে ধরা ঝুঁকিপূর্ণ।


Follow the money: বিদেশি বিনিয়োগ মানেই সরকারি ঝুঁকি শূন্য নয়

North Dhaka Waste-to-Energy Project-এর জন্য New Development Bank ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং Asian Infrastructure Investment Bank-ও ১০০ মিলিয়ন ডলারের financing কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রকল্পটিকে উচ্চ environmental ও social risk-এর Category A হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

NDB-এর project documentation-এ livelihood loss, community health and safety, toxic compounds এবং soil ও groundwater contamination-এর মতো ঝুঁকির কথাও রয়েছে।

তাই বিদেশি অর্থায়নকে সমস্যা হিসেবে দেখার কারণ নেই; বরং financing-এর সঙ্গে থাকা environmental ও social safeguards কার্যকর আছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে “সরকারি বিনিয়োগ নেই” কথাটির সঙ্গে জমি, infrastructure, waste supply, tariff commitment এবং দীর্ঘমেয়াদি electricity purchase liability মিলিয়ে দেখলে প্রকল্পটির প্রকৃত public exposure বোঝা যাবে।


আমিনবাজারের বাইরে: একই ভূখণ্ডে আরেক চাপ

আমিনবাজারকে শুধু landfill boundary দিয়ে দেখলে বৃহত্তর land-use change আড়ালে থেকে যায়।

Aminbazar, Baliarpur, Kaundia, Bongaon ও Turag corridor-এ wetland filling, flood-flow zone এবং housing development নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। Modhumoti Model Town-এর মামলাগুলো এই অঞ্চলে wetland ও flood-flow zone রক্ষার বিচারিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

CEGIS-এর satellite evidence landfill footprint বৃদ্ধির চিত্র দেখিয়েছে। অন্যদিকে রাজউকের Ashulia Housing Project নিয়েও জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ সংবাদে এসেছে, যদিও ওই প্রকল্পের পরিবেশগত clearance ও জমির পূর্ণ status আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ একই অঞ্চলে landfill expansion, housing development, wetland pressure এবং নতুন waste infrastructure—সবগুলোকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে cumulative environmental impact ধরা পড়বে না।


জুলাইয়ের প্রশাসনিক তৎপরতা: সমাধানেরই একটি অংশ

গত ৫ জুলাই ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার পরিদর্শন করে সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেন। ১৭ জুলাই পূর্বঘোষণা ছাড়া পুনরায় গিয়ে বর্জ্য ফেলার ধারাবাহিকতা দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এটিকে জেলা প্রশাসন বনাম waste-to-energy project হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

বরং ঘটনাটি দেখায়, মাঠপর্যায়ে waste governance কতটা জটিল। সড়ক থেকে বর্জ্য সরানোর পর তা কোথায় যাবে, দূরবর্তী খাসজমি ব্যবহার হলে সেই জমির environmental status কী এবং ভবিষ্যৎ waste supply chain-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—এসব সিদ্ধান্ত একই governance chain-এর অংশ।

জেলা প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা তাই এই অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ stakeholder-এর ভূমিকা রাখে—প্রকল্পের প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, বরং waste governance-এর বাস্তবায়নকারী অংশ হিসেবে।


দাতা অর্থের হিসাবও একই স্বচ্ছতার আওতায়

Openaid.se অনুযায়ী, Sida ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত BELA-র “Defending Environmental Rights and Promoting Justice” কর্মসূচির জন্য ২২,৮৮৩,৫৩০ Swedish krona দিয়েছে।

এই funding কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। বরং প্রশ্নটি donor accountability-এর একই মানদণ্ডে দাঁড় করানোর।

Programme-এর outcome কী ছিল, কতটি environmental case বাস্তবে measurable remedy পেয়েছে, কতটি ecosystem restoration হয়েছে এবং completion-এর পর independent impact evaluation বা forensic audit হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশ পেলে donor-funded environmental governance-এর ফলাফলও পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

প্রকাশ্য Openaid তথ্য contribution ও programme objective দেখায়; কোনো নির্দিষ্ট forensic audit সম্পন্ন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত সেখান থেকে নেওয়া যায় না। তাই এই অংশের চূড়ান্ত উত্তর সংশ্লিষ্ট donor ও implementing organisation-এর নথি থেকেই আসতে হবে।


কপ-৩১: জলবায়ু অর্থ চাইলে ঘরের হিসাবও পরিষ্কার থাকা দরকার

বাংলাদেশ কপ-৩১-এ climate finance, adaptation, loss and damage এবং climate justice-এর দাবি তুলবে। এই দাবি বাংলাদেশের জন্য যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়।

কিন্তু international climate finance শুধু অর্থ পাওয়ার প্রশ্ন নয়; অর্থ ব্যবস্থাপনা, transparency এবং measurable outcome-এর প্রশ্নও।

একটি দেশ যখন আন্তর্জাতিক climate fund-এর কাছে accountability দাবি করে, তখন তার নিজের climate-linked infrastructure project-এ baseline, monitoring, verification ও independent audit থাকা সেই দাবিকেই শক্তিশালী করে।

আমিনবাজারের ক্ষেত্রে তাই ২০১০ সালের অসমাপ্ত environmental damage assessment এবং ২০২৬ সালের নতুন carbon-linked infrastructure project একই আলোচনার অংশ।

Climate justice আন্তর্জাতিক মঞ্চে শুরু হলেও তার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় দেশের ভেতরে।


তাহলে আমিনবাজারে কী করা সম্ভব?

বর্তমান তথ্য দিয়ে WtE প্রকল্পকে অসম্ভব বলা যায় না। প্রশ্ন হলো, বর্তমান waste composition, বাংলাদেশের আবহাওয়া, উচ্চ moisture, দুর্বল source segregation, পুরোনো landfill liability, land-use pressure এবং tariff structure-এর সঙ্গে কোন technology mix সবচেয়ে বেশি value for money দেবে।

সিদ্ধান্তের আগে incineration-এর পাশাপাশি MBT, composting, anaerobic digestion, RDF এবং landfill-gas recovery-এর life-cycle cost, greenhouse-gas benefit, health risk, land requirement, ash generation এবং employment impact তুলনা করা দরকার।

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও waste composition-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ resource-recovery model তৈরি করলে একদিকে landfill-এর চাপ কমবে, অন্যদিকে carbon benefit-ও বাস্তব হতে পারে।


সমাধান: আগে baseline, তারপর finance

আমিনবাজারকে চাইলে বাংলাদেশের একটি transparency pilot হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

প্রথমে আদালত-নির্দেশিত পুরোনো environmental assessment পুনরুদ্ধার বা independent forensic environmental audit করা যেতে পারে। Satellite imagery দিয়ে landfill footprint, flood-flow zone, wetland change ও drainage pattern পুনর্গঠন করা যায়। Soil, groundwater, surface water, leachate ও air quality-এর নতুন baseline তৈরি করা যায়।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মৌসুমে waste sampling করে moisture, calorific value, organic fraction, chlorine, heavy metals ও ash content পরীক্ষা করা দরকার।

তারপর প্রকাশ করতে হবে full financial model—tariff, exchange-rate risk, waste shortfall, carbon-credit revenue এবং long-term electricity purchase liabilityসহ।

এরপর independent third-party verification এবং public monitoring dashboard চালু করা যেতে পারে।

কত টন বর্জ্য ঢুকল, কত recycle হলো, কত organic treatment হলো, কত বিদ্যুৎ তৈরি হলো, কত ash হলো, ash কোথায় গেল, কত methane capture হলো, emission কত এবং কত carbon credit দাবি করা হলো—এই তথ্য নাগরিকের সামনে থাকলে প্রকল্পের পরিবেশগত ও আর্থিক মূল্যায়ন বাস্তব হবে।


১৬ বছরের পুরোনো প্রশ্নের সামনে ১৮ মাসের নতুন ঘড়ি

আমিনবাজারের গল্পে সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয়টি সময়ের ব্যবধান।

২০১০ সালে আদালত পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব চেয়েছিল।

২০২৬ সালে একই ভূখণ্ডে ১৮ মাসের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে landfill বেড়েছে, বর্জ্য বেড়েছে, methane emission বেড়েছে, land-use pressure বেড়েছে এবং মানুষের জীবিকা বদলেছে।

কিন্তু পুরোনো ক্ষতির পূর্ণ হিসাব যদি এখনও অমীমাংসিত থাকে, তাহলে নতুন প্রকল্পের climate benefit-এর হিসাবও স্বাভাবিকভাবেই আরও কঠিন হয়ে যায়।

আমিনবাজারের আসল প্রশ্ন তাই শুধু ৪২.৫ মেগাওয়াট নয়।

আসল প্রশ্ন হলো—যে প্রকল্পকে জলবায়ু-সমাধান বলা হচ্ছে, তার প্রতিটি টন বর্জ্য, প্রতিটি ইউনিট বিদ্যুৎ, প্রতিটি টন নির্গমন, প্রতিটি কার্বন ক্রেডিট, প্রতিটি সরকারি টাকা এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হিসাব কি স্বাধীনভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে?

যদি দেখা হয়, সেই নথি প্রকাশিত হলেই বিতর্কের বড় অংশের অবসান হতে পারে।

আর যদি এখনো না হয়ে থাকে, তাহলে ১৮ মাসের ঘড়ি চালুর আগে হিসাবের ঘড়িটা ঠিক করাই হয়তো সবচেয়ে জরুরি।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু হবে না—বর্জ্য থেকে কত বিদ্যুৎ তৈরি হলো।

প্রশ্নটি হবে—বর্জ্যকে বিদ্যুৎ বানাতে গিয়ে আমরা পরিবেশের আর কতটা মূল্য দিলাম।


সম্পাদকীয় নোট

এই অনুসন্ধানে কোনো ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান, NGO বা বিদেশি অর্থদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। যেসব তথ্য আদালতের নথি, প্রকল্প চুক্তি, environmental clearance, laboratory data অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য দিয়ে আরও যাচাই প্রয়োজন, সেগুলোকে যাচাই-সাপেক্ষ তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বেঙ্গল গেজেট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজউক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা জেলা প্রশাসন, BPDB, NDB, AIIB, Sida এবং BELA-সহ সংশ্লিষ্ট stakeholders-এর কাছে তথ্য ও নথি চাইবে। উত্তর বা প্রমাণসমর্থিত সংশোধন পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এই প্রতিবেদনটি বেঙ্গল গেজেটের “COP-31 Special Series”-এর অংশ। পরবর্তী পর্বে তথ্য অধিকার আইনে প্রাপ্ত সরকারি নথি, আদালতের নথি, প্রকল্প চুক্তি, environmental clearance, satellite analysis, laboratory waste characterisation এবং মাঠপর্যায়ের সাক্ষাৎকার একত্র করে আমিনবাজার প্রকল্পের environmental, financial ও climate-accounting trail পুনর্গঠন করা হবে।

এই অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্বে তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া নথি, আদালতের রেকর্ড, প্রকল্প চুক্তি, environmental clearance, satellite analysis, laboratory waste characterisation এবং মাঠপর্যায়ের সাক্ষাৎকার একত্র করে আমিনবাজারের environmental, financial এবং climate-accounting trail আরও গভীরভাবে অনুসরণ করা হবে।



কপিরাইট নোটিশ:

© ২০২৬ Bengal Gazette। কোম্পানি নং ১৭২৪৩৩৫৪ (ইংল্যান্ড ও ওয়েলস) · । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই প্রতিবেদনের কোনো অংশ — লেখা, তথ্য-উপস্থাপনা, বা গবেষণা — Bengal Gazette-এর লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মাধ্যমে (প্রিন্ট, অনলাইন, সম্প্রচার, বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) পুনঃপ্রকাশ, পুনঃবিতরণ, বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সাংবাদিকতার স্বীকৃত রীতিতে (fair dealing), সরাসরি সূত্র উল্লেখ ও এই প্রতিবেদনের লিংকসহ, অনুমোদিত।

পুনঃপ্রকাশ, সিন্ডিকেশন বা লাইসেন্সিং সংক্রান্ত অনুরোধের জন্য: licensing@bengalgazette.asia