সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের ২৪ বছরের নিষ্ক্রিয়তার অনুসন্ধান
সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯ সালের চূড়ান্ত রায়ের ৬ বছর পরও সাভারের ৫৫০ একর জলাভূমি পুনরুদ্ধার হয়নি। তিনটা সরকার বদলেছে, আটটা রিসোর্ট বদলায়নি। Bengal Gazette আজ ১৪টি সরকারি দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন দাখিল করে জানতে চাইছে কেন।
একটি অবৈধ ভরাট জলাশয়ের আবাসন প্রকল্প
By Abeer Uz Zaman, Editor-in-Chief ·
সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল — সাভারের ৫৫০ একর জলাভূমি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। ছয় বছর পর, তিনটা সরকার বদলের পরও, কিছুই ফেরেনি। Bengal Gazette আজ ১৪টি সরকারি দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন দাখিল করে জানতে চাইছে কেন।
৭ আগস্ট, ২০২৪। বুধবার। ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন মাত্র দুই দিন আগে। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর একটা টিম গাড়ি থেকে নামল সাভারের আমিনবাজারে, সোর্স লাইনের কাছে। তাদের হাতে কোনো নতুন আদেশ ছিল না — যে রায়ের কথা তারা মানছিল, সেটা পাঁচ বছরের পুরনো। তারা শুধু লাইন কেটে দিল।
সেই মুহূর্তে অন্ধকার নেমে এলো আটটা রিসোর্টে, বিশটা ডুপ্লেক্স বাড়িতে, তিনশোরও বেশি ভবনে, দেড়শো টিনশেড ঘরে। সংস্থার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মোল্লা মো. আবুল কালাম আজাদ পরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন একটা কথা, যেটা আসলে পুরো গল্পটার সারমর্ম — “নানা প্রভাবশালীদের কারণে আমরা এতদিনেও এটা করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে।” [১]
প্রশ্নটা হলো — “এখন” মানে ঠিক কী বদলেছিল? আর “প্রভাবশালী” মানে ঠিক কারা?
এটা শুধু সাভারের গল্প না। এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশে একটা সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ও কীভাবে ক্ষমতার হাত বদলে বদলে এড়ানো যায় — এবং কেন এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটা জলাভূমির জন্য না, দেশের প্রতিটা প্রতিষ্ঠিত রায়ের ভবিষ্যতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
একটা জলাভূমি যাকে রাষ্ট্র নিজেই চিনত
গল্পটা শুরু হয় বিদ্যুতের অনেক আগে। ১৯৯৭ সালে, ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনায়, সাভারের বিলামালিয়া ও বলিয়ারপুর মৌজার একটা জমিকে সরকার নিজেই একটা নাম দিয়েছিল — “বন্যা-প্রবাহ অঞ্চল” (Flood Flow Zone) [৬]। এই নামকরণের পেছনে কারণ ছিল ভূগোল, অনুভূতি না। তুরাগ নদীর একটা শাখা এই জমির মধ্য দিয়ে বয়ে যেত, বর্ষায় ফুলে ওঠা পানি এই পথ দিয়েই ছড়িয়ে পড়ত আশপাশে — এটাই ছিল ঢাকার প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থার একটা অংশ।
২০০২ সালে, মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেড নামের একটা কোম্পানি সেই জলাভূমিতে মাটি ফেলা শুরু করল। প্রথম বছরগুলোয় ভরাট হয়েছিল প্রান্তিক অংশ — যেখানে জলপ্রবাহ তুলনামূলক কম। কিন্তু বছরের পর বছর, ট্রাকভর্তি মাটি এসে জমা হতে থাকল মূল চ্যানেলের দিকে। যে জায়গা দিয়ে বর্ষার পানি তুরাগে গিয়ে মিশত, সেই পথ একটু একটু করে সরু হতে থাকল, তারপর বন্ধ হয়ে গেল সম্পূর্ণ। ২০১৪ সালের মধ্যে, যখন প্রকল্পের বিদ্যুৎ চাহিদা ৯০০ কিলোওয়াট বেড়ে গেছে, ততদিনে জলপ্রবাহের সেই আদি পথের কোনো চিহ্নই আর মাটির উপর থেকে দেখার উপায় ছিল না — শুধু পুরনো মৌজা ম্যাপ আর স্যাটেলাইট আর্কাইভে তার প্রমাণ থেকে গেছে। (এই ধাপে ধাপে ভরাটের সময়রেখাই হবে ভিডিও প্রতিবেদনের satellite timelapse-এর কাঠামো — প্রতিটা বছরের চিত্র পাশাপাশি রেখে দেখানো হবে কীভাবে একটা জীবন্ত জলপথ ধীরে ধীরে দালানে পরিণত হয়।)
কোম্পানিটা নাম দিয়েছিল “মধুমতি মডেল টাউন।” প্রথম বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছিল মাত্র ১০ কিলোওয়াটের — যেন একটা সাধারণ বসতি, যেখান থেকে একদিন দাঁড়াবে গোটা একটা বাণিজ্যিক নগরী [৬]।
দুই বছর পর, ২০০৪ সালের আগস্টে, একজন তরুণ আইনজীবী হাইকোর্টে একটা রিট আবেদন করলেন। তার নাম সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান — তখন তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-র প্রধান নির্বাহী, কোনো ক্ষমতার পদে না, শুধু একজন আইনজীবী যিনি বিশ্বাস করতেন একটা জলাভূমি বাঁচানো যায় [৬]। ২০০৫ সালে হাইকোর্ট তাকে জিতিয়ে দিল — প্রকল্পটা অবৈধ, জনস্বার্থবিরোধী।
আইনি লড়াই থামল না। ২০১২, তারপর ২০১৩ — আপিল বিভাগ ১৫৯ পৃষ্ঠার এক রায়ে আবার নিশ্চিত করল: জলাভূমি ফিরিয়ে দিতে হবে (Civil Appeal No. 253, 255, 256 of 2009) [৭, ৮, ২৪]। মেট্রো মেকার্স পাঁচটা রিভিউ পিটিশন করল। মামলা যখন এখনও আদালতে ঝুলছে, ২০১৪ সালে, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ চুপচাপ বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়ে নিল ৯০০ কিলোওয়াট — যেন তারা জানতই, রায় যাই হোক, থামতে হবে না [৬]।
২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল, অবশেষে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সব পথ বন্ধ করে দিল। পাঁচটা রিভিউ পিটিশনই খারিজ। রায় চূড়ান্ত, অ-আপিলযোগ্য [৭, ৮]।
এর কয়েকদিনের মধ্যেই একটা সাইনবোর্ড বদলে গেল। “মধুমতি মডেল টাউন” হয়ে গেল “নান্দনিক হাউজিং।”
তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঞা তখন সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন একটা তিক্ত কথা: “নাম পাল্টালেও এটা অবৈধ। শুধু নাম পাল্টে রায় এড়ানোর চেষ্টা হাস্যকর।” [৮] তারপর তিনি চলে গেলেন, আর সাইনবোর্ড রয়ে গেল।
অন্ধকার নামার পর
২০১৯ থেকে ২০২৪ — পাঁচ বছর। কোনো ভবন ভাঙা হয়নি। কোনো মাটি সরানো হয়নি। রিসোর্ট বাড়তেই থাকল — Chayabithi, Kollol, Rajmohol, Jatra Jiyon, Lakeview — প্রতিটাই Facebook-এ সুইমিং পুলের ছবি দিয়ে, বিয়ের প্যাকেজ বিজ্ঞাপন দিয়ে, বুকিং ডটকমে রুম ভাড়া দিয়ে গ্রাহক টানছিল [১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩]। এদের একটা, Jatra Jiyon Resort, তার নিজের ঠিকানাতেই লিখে রেখেছে — “Nandonik Housing Residential Area, Aminbazar” [২২]। নিজের মুখেই স্বীকারোক্তি, বিজ্ঞাপনের ভাষায়।
তারপর এলো সেই আগস্টের ভোর।
বিদ্যুৎ কাটার পরদিনই, যিনি এই মামলার প্রথম আইনজীবী ছিলেন, সেই সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান — এখন আর সাধারণ আইনজীবী না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা — সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই অবাক হয়ে বললেন, রায়ের ছয় বছর পরেও কীভাবে একটা সরকারি সংস্থা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ সচল রেখেছিল। এটাকে তিনি বললেন “পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির আরেকটা উদাহরণ।” আর যোগ করলেন একটা লাইন, যেটা এই পুরো গল্পের সবচেয়ে ভারী বাক্য হতে পারত: “কাঠামো বা ভবন ভাঙা হয়নি, সরানো হয়নি। এমনকি এলাকা থেকে এখনও কোনো মাটিও সরানো হয়নি।” [৬]
তিনি ঠিক বলেছিলেন। কিন্তু এখানেই গল্পটা একটা মোড় নেয় — কারণ পরের দেড় বছরে, যখন তিনি নিজে ক্ষমতার এমন একটা আসনে বসেছিলেন যেখান থেকে ঠিক এই কাজটা করানো সম্ভব ছিল, সেই মাটিও সরেনি। বিদ্যুৎ কাটাটা করেছিল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, যেটা তার মন্ত্রণালয়ের অধীনেও ছিল না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন তিনি বিদায় নিলেন উপদেষ্টার পদ থেকে, ভবনগুলো তখনও দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক যেমন ছিল ২০১৯ সালে [১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭]।
এখানে একটা প্রশ্ন না তুলে উপায় নেই — যিনি ক্ষমতার বাইরে থেকে বছরের পর বছর একটা জলাভূমির জন্য লড়েছেন, বিনা স্বার্থে, যখন তিনি নিজে ক্ষমতায় বসেন এবং একই মামলা বাস্তবায়নের সুযোগ পান, তখন যদি সেই সুযোগে তিনি নিজের পুরনো লড়াইটার কথাই না তোলেন — তাহলে সেই জলাভূমির পক্ষে, সেই ২০ হাজার মানুষের পক্ষে, আসলে আর কথা বলার কেউ থাকে না। এটা একজন মানুষের বিচার না — এটা একটা প্রশ্ন, যেকোনো নিঃস্বার্থ আন্দোলনকর্মী বা বিদেশি অর্থায়নে চলা সংস্থার প্রধানের জন্যই প্রাসঙ্গিক: ক্ষমতা কি আদর্শকে বাঁচায়, নাকি গিলে খায়? (এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর RTI-এর জবাবেই পাওয়া যাবে — এখানে যা বলা হলো তা প্রকাশ্য সময়রেখা থেকে উঠে আসা প্রশ্ন, রায় না।)
মানুষ, আর সংখ্যা যা তারা বহন করে
এই গল্পে সবাই ভিলেন না।
শেখ আবদুল্লাহ নান্দনিক হাউজিং সোসাইটির সভাপতি। বিদ্যুৎ কাটার পর সাংবাদিকদের তিনি একটা সহজ প্রশ্ন করেছিলেন: “করবেই যদি, তাহলে আজ কেন? এতদিন কেন করেনি?” [৬] তার সাধারণ সম্পাদক আজম খান মুন্না বলেছিলেন আরও কষ্ট নিয়ে — “আমরা তো কেউ আইন-আদালতের ঊর্ধ্বে নই। আমাদের আপিলের সুযোগও নেই। নিয়মিত বিল দিয়ে এসেছি, অথচ আজ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নদীতে পড়ার মতো।” [৬]
এই মানুষগুলো — সাড়ে তিন হাজার প্লট মালিক পরিবার, প্রায় ২০ হাজার মানুষ — দাবি করেন তারা ২০০১ সাল থেকে ধাপে ধাপে জমি কিনেছেন, নামজারি করেছেন, খাজনা দিয়েছেন। জমির CS/SA/RS পর্চায় লেখা ছিল “নাল জমি,” জলাভূমি না [৫, ২৬]। আদালতের রায়ে তাদের প্রাপ্য দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ, ছয় বছরেও আসেনি।
কিন্তু এই একই এলাকায়, একই সাইনবোর্ডের নিচে, আরেকটা গল্প চলছে — যেটা বসতবাড়ির গল্প না। Chayabithi-তে সুইমিং পুল, বারবিকিউ জোন, ফিশিং জোন। Jatra Jiyon-এ দশটা রুম, রাতপ্রতি ভাড়া আন্তর্জাতিক বুকিং সাইটে ১২২ ডলার পর্যন্ত দেখানো হয় [১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩]। একটা পরিবার তার ছাদ হারানোর ভয়ে থাকা, আর একটা রিসোর্ট প্রতি রাতে অতিথি ঢোকানো — এই দুইটা এক জিনিস না।
এত বড় স্থায়ী বিনিয়োগ কেন এতজন করেছেন, তার একটা আর্থিক মাত্রা বোঝা দরকার। সাভারের কাছাকাছি একটা মৌজায় (কলমা) সরকারি সর্বনিম্ন মূল্য অনুযায়ী নাল জমি প্রতি শতাংশ ২.৫-৩ লাখ টাকা [২৭]। বিলামালিয়া-বলিয়ারপুর মৌজার সুনির্দিষ্ট রেট আমাদের হাতে নেই — সেটা RTI জবাবের অপেক্ষায় — কিন্তু এই রক্ষণশীল, প্রতিবেশী-মৌজা রেট দিয়েই যদি ৫৫০ একর (প্রায় ৫৫,০০০ শতাংশ-সমতুল্য জমি) হিসাব করা হয়, ন্যূনতম মূল্য দাঁড়ায় শত শত কোটি টাকার অঙ্কে — এবং এটা শুধু “নাল জমি”র দর, বাণিজ্যিক ব্যবহারের বাজারদর অবশ্যই আরও বহুগুণ বেশি। এত বড় অঙ্কের সম্পদ ২৪ বছর ধরে একটা অবৈধ ঘোষিত ভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা — এটা নিছক কাকতালীয় ঝুঁকি নেওয়া বিনিয়োগ বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
একটা বাণিজ্যিক রিসোর্ট চালাতে ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র, বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন লাগে — আর এই প্রতিটাই একটা সরকারি নথি, যা খুঁজে বের করা সম্ভব। এটাই এই তদন্তের ভিত্তি।
একই গল্প, আরেকটা জলাভূমিতে
আমরা যখন BELA-র নিজের মামলার তালিকা ঘাঁটছিলাম, একটা এন্ট্রি থমকে দিল আমাদের: “Order on Protection and restoration of the Flood Flow Zone, Savar — WP 2922 of 2024” [১১]।
এটা মধুমতির মামলা না। এটা একই উপজেলার আরেকটা জলাভূমি — “গোজাইরার বিল,” ৬০০ একরের, য়ারপুর ইউনিয়নে, ভিন্ন দুইটা কোম্পানির (Uttaran Properties Limited ও Achieve Corporation) বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে হাইকোর্ট যা করেছিল, তা যেন মধুমতির চিত্রনাট্যেরই আরেকটা প্রিন্ট — একই তিনটা প্রতিষ্ঠানকে (রাজউক চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা জেলা প্রশাসক) কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলা হলো [১১]।
আমরা তখনই বুঝলাম — এটা একটা বিচ্ছিন্ন ব্যর্থতা না। এটা একটা প্যাটার্ন। একই তিনটা সংস্থার হাতে, একই উপজেলায়, বারবার একই জিনিস ঘটছে: আদালত আদেশ দেয়, প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, আর তারপর সময় থেমে যায়।
অধ্যায় ৫ — একটা সাফল্যের গল্প, যেটা আসলে অসম্পূর্ণ
BELA নিজের ওয়েবসাইটে মধুমতিকে তাদের সাফল্যের তালিকায় রেখেছে — “Flood flow zones of Dhaka protected from land grabbing… Modhumoti, Jamuna, Ashiyan townships” [২৪]। “Protected” — সুরক্ষিত। কিন্তু এই শব্দটা এখানে কতটা সত্যি?
রায় জেতা মানে জলাভূমি বাঁচানো না। জলাভূমি বাঁচে তখনই, যখন মাটি সরে, পানি ফেরে, মাছ বাঁচে। মধুমতির ক্ষেত্রে, রায়ের ১২ বছর পরও, এর একটাও ঘটেনি। BELA তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটা বিচারিক জয়কে পরিবেশগত সাফল্য হিসেবে চিরস্থায়ী করে রেখেছে, অথচ মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তার বিপরীত সাক্ষ্য দেয়। এটা শুধু একটা ভুল দাবি না — এটা একটা প্রাতিষ্ঠানিক আত্মতুষ্টির লক্ষণ, যেখানে “মামলা জেতা” আর “সমস্যা সমাধান হওয়া” — এই দুইটাকে সমান ধরে নেওয়া হয়েছে।
ন্যায্যতার খাতিরে উল্লেখ করা দরকার — BELA-র সব বিজয় সমান পরিণতি পায়নি। BGMEA-র ভবন সত্যিই ভাঙা হয়েছিল। হাজারীবাগের ট্যানারি সত্যিই সাভারে সরানো হয়েছে [২৫]। তাই প্রশ্নটা এই না যে BELA সবসময় ব্যর্থ — প্রশ্নটা হলো, যখন একটা মামলা বাস্তবায়নে গিয়ে থেমে যায়, তখন সেই সংস্থা কি নিজের ওয়েবসাইট থেকে সেটাকে “সাফল্য” তালিকা থেকে সরিয়ে “অসম্পূর্ণ” তালিকায় রাখে? মধুমতির ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। ফলে জনসাধারণ ও দাতা — উভয়ের কাছেই একটা ভুল ছবি তুলে ধরা হচ্ছে: যে সমস্যাটা সমাধান হয়ে গেছে, যেখানে বাস্তবে তা হয়নি।
টাকা কোথা থেকে আসে, আর কী প্রতিশ্রুতিতে
BELA-র কাজ চালাতে অর্থ লাগে, এবং সেই অর্থ আসে দাতাদের কাছ থেকে যাদের নিজস্ব ঘোষিত উদ্দেশ্য আছে। এটা গোপন কিছু না — BELA নিজেই এটা প্রকাশ করে।
সবচেয়ে স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত দাতা: সুইডেন দূতাবাস, বাংলাদেশে। ২০১৯ সাল থেকে পাঁচ বছরের একটা কর্মসূচির জন্য অনুদান দিয়ে আসছে, নাম “Defending Environmental Rights and Promoting Justice” — এবং সাম্প্রতিক সময়ে এই সহযোগিতা নতুন করে নবায়িত হয়েছে [২৮]। সুইডিশ দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রধান নিজেই এই কর্মসূচির লক্ষ্য বলেছিলেন — নাগরিকদের পরিবেশ অধিকার রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং “progressive, equitable, effective global legal orders” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা [২৮]। BELA-র প্রধান নির্বাহী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন — “আমরা মানুষকে তাদের পরিবেশ অধিকার প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতায়িত করা চালিয়ে যাব” [২৮]।
এখন প্রশ্নটা সহজ, কিন্তু এড়ানো যায় না: সুইডেন দূতাবাসের টাকা ঠিক এই ধরনের মামলাতেই ফলাফল আনার জন্য দেওয়া হয়েছিল — অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করা। অথচ এই একই দাতা-অর্থায়িত সংস্থার সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে বেশি প্রচারিত মামলা — মধুমতি — এখনও বাস্তবে অসম্পূর্ণ, ১২ বছর পরেও। “Effective legal order” প্রতিষ্ঠার জন্য দেওয়া অর্থ যদি একটা মামলাকে শুধু জেতাতে পারে, বাস্তবায়ন করাতে না পারে, তাহলে সেই অর্থ আসলে কতটা “effective” ফলাফল তৈরি করছে — এই প্রশ্ন দাতা সংস্থার নিজেরই তোলা উচিত, এবং আমরা এখানে সেটাই তুলে ধরছি।
এটা BELA-র সততা নিয়ে অভিযোগ না — টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে তার প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। কিন্তু ফলাফলের এই ফারাকটা একটা বৈধ, নথিভিত্তিক প্রশ্ন: দাতার ঘোষিত লক্ষ্য আর বাস্তবের মধ্যে যে ব্যবধান, সেটা কি শুধু একটা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা, নাকি সেটা একটা বড় প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশে বিদেশি-অর্থায়িত পরিবেশ-অধিকার কাজের বাস্তব প্রভাব নিয়ে?
যারা প্রকাশ্যে কিছু বলেনি, অথচ যাদের বলার কথা ছিল। বাংলাদেশে দুইটা সবচেয়ে বড় ও পরিচিত পরিবেশবাদী সংগঠনের নিজস্ব মিশন স্টেটমেন্ট দেখুন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (POBA)-র ঘোষিত লক্ষ্য: “জনস্বার্থের পরিপন্থী… উন্নয়নের ছদ্মাবরণে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা ধ্বংসকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রশক্তিকে সচেষ্ট করা” [২৯]। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (BAPA)-র লক্ষ্য: “দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায়” [৩০]।
এই দুইটা বর্ণনা মধুমতি মডেল টাউনের চেয়ে ভালো আর কোনো উদাহরণে খাটে না — “উন্নয়নের ছদ্মাবরণে পরিবেশ ধ্বংস” এর চেয়ে নির্ভুল সংজ্ঞা আর হয় না। তাদের ওয়েবসাইট, প্রেস রিলিজ ও সংবাদ সংরক্ষণাগার ঘেঁটে আমরা মধুমতি বা নান্দনিক হাউজিং নিয়ে এই দুই সংস্থার কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি, মানববন্ধন, বা স্মারকলিপি খুঁজে পাইনি — যেখানে বৃক্ষনিধন বা রামপালের মতো অন্য ইস্যুতে তাদের সক্রিয়তা সুস্পষ্টভাবে নথিভুক্ত [৩১]। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে তারা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল — অভ্যন্তরীণ লবিং প্রকাশ্য রেকর্ডে ধরা পড়ে না। কিন্তু প্রকাশ্য রেকর্ডে যা নেই, তা নেই — এবং প্রায় দুই যুগ ধরে চলা, বহুল-প্রচারিত এই মামলায় দুইটা প্রধান পরিবেশ সংগঠনের এই নীরবতা নিজেই একটা তথ্য।
তারা কীভাবে চাপ তৈরি করতে পারত, কিন্তু করেনি। BELA, BAPA, POBA-র মতো সংস্থার হাতে সুনির্দিষ্ট হাতিয়ার আছে — যৌথ বিবৃতি জারি করা, আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করা, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে সরাসরি স্মারকলিপি দেওয়া, বা RTI ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে সরকারি সংস্থাগুলোর অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা। ২০১৯ সালের চূড়ান্ত রায়ের পর এই ধরনের কোনো সংঘবদ্ধ চাপ প্রয়োগের প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। Bengal Gazette BELA, BAPA ও POBA — তিন সংস্থার কাছেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশ্ন পাঠাচ্ছে এবং তাদের বক্তব্য পেলে যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সম্পর্কিত অনুসন্ধান: Bengal Gazette-এর পরিবেশ ডেস্কের আরেকটা চলমান জবাবদিহিতামূলক অনুসন্ধান — “ছাড়পত্র সত্যি, নাকি কাগজে? সাভারের ইটভাটা নিয়ে বেঙ্গল গেজেটের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান” — একই উপজেলায়, একই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে: কাগজে যা লেখা আছে, বাস্তবে কি তাই ঘটছে?
চৌদ্দটা প্রশ্ন, চৌদ্দটা দপ্তর
আজ Bengal Gazette রাজউক থেকে ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ১৪টি সরকারি দপ্তরে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করেছে।
রাজউক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছি — ২০১৯ সালের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, আর কেন তা বাস্তবায়িত হয়নি। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কাছে চেয়েছি মূল CS/SA/RS রেকর্ড, যা প্লট মালিকদের দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করবে। সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ রেজিস্ট্রির কাছে চেয়েছি রায়ের সার্টিফায়েড কপি ও রিভিউ/মডিফিকেশন আবেদনের বর্তমান অবস্থা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে চেয়েছি — কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে এতদিন রিসোর্টগুলো সচল ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর, নদী রক্ষা কমিশন, BIWTA ও মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে চেয়েছি জলাভূমি পুনরুদ্ধারের প্রকৃত অগ্রগতির নথি। জেলা প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদের কাছে চেয়েছি স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও ট্রেড লাইসেন্সের তথ্য। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কাছে চেয়েছি রিসোর্ট নিবন্ধনের তথ্য। আর সাভার মডেল থানার কাছে চেয়েছি হাজি আব্দুল বাতেন সংক্রান্ত মামলার হালনাগাদ তথ্য — যিনি স্থানীয়ভাবে এই এলাকায় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের পৃষ্ঠপোষক বলে অভিযুক্ত।
তথ্য অধিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী, এই দপ্তরগুলো ২০ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে আইনত বাধ্য।
রাষ্ট্রের ঠিকানা বদলায়, ভবন বদলায় না
এই ২৪ বছরে বাংলাদেশ তিনটা সরকার দেখেছে — শেখ হাসিনার সরকার, ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আর এখন তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার। প্রতিটা সরকার বদলেছে ক্ষমতার ভাষা, বদলেছে মুখ, বদলেছে প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সাভারের সেই আটটা রিসোর্ট, সেই তিনশো ভবন — সেগুলো বদলায়নি।
বর্তমান সরকারের নিজস্ব “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা”-য় স্পষ্ট অঙ্গীকার আছে — “সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা” [৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫]। রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি — এই সবই সেই সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পড়ে। এই প্রতিশ্রুতি আর মধুমতির ২৪ বছরের বাস্তবতা পাশাপাশি রাখলেই বোঝা যায় ব্যবধানটা কতখানি।
Bengal Gazette আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করছে বর্তমান সরকারের তিনজন প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তগ্রহণকারীর সাথে — গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর (রাজউকের সরাসরি অভিভাবক), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এবং ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু [৩৬, ৩৭] — এই মামলা সম্পর্কে তাদের অবগতি ও পরিকল্পনা জানতে।
মানুষ যা জিজ্ঞেস করে
আমরা এই তদন্তে কারো বিরুদ্ধে কোনো অপ্রমাণিত অভিযোগ আনছি না। কিন্তু একটা প্রশ্ন এড়ানো যায় না, কারণ এটা আমাদের প্রশ্ন না — এটা সাভারের সেই মানুষগুলোর প্রশ্ন, যারা তিনটা সরকার বদলাতে দেখেছেন অথচ তাদের মাথার উপরের অনিশ্চয়তা এক চুলও বদলায়নি।
এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, এত বছর ধরে, তিনটা ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সরকারের অধীনে টিকে থাকা — এটা এমন একটা প্রশ্ন তোলে যার উত্তর নিছক প্রশাসনিক শৈথিল্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। যদি সাধারণ অবহেলাই একমাত্র কারণ হতো, তাহলে অন্তত একটা সরকারের আমলে, একবারের জন্য হলেও, পুরোপুরি ভিন্ন ফলাফল দেখা যেত। তার বদলে যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো ধারাবাহিকতা — যেন সুরক্ষার একটা কাঠামো যা রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়, ভেঙে পড়ে না।
কারা এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতার প্রকৃত সুবিধাভোগী, আর কেন এত প্রভাবশালী কণ্ঠস্বরও — যাদের কথা বলার এখতিয়ার ও সামর্থ্য দুটোই ছিল — এই নির্দিষ্ট মামলায় নীরব থেকে গেছে, সেই প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন জনগণের নিজেরই, এবং রাষ্ট্রের নিজস্ব নথিরও। Bengal Gazette এই প্রশ্নের কোনো আগাম উত্তর দিচ্ছে না — শুধু নথিভুক্ত করছে যে প্রশ্নটা বাস্তব, ব্যাপক, এবং RTI জবাবই এখন পর্যন্ত এর সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে পারে।
যদি সমাধান না হয়
এই তদন্তের ফলাফল যদি RTI জবাবে বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে প্রতিফলিত না হয়, Bengal Gazette এই বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরবে — সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ও বক্তব্যের অনুরোধ পাঠিয়ে।
যদি সেই অনুরোধে সাড়া না মেলে, বা সাড়া মিললেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসে, তাহলে প্রশ্নটা আর প্রশাসনিক থাকবে না — সেটা হয়ে উঠবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন। আর যদি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট, নিজের একটা চূড়ান্ত ও অ-আপিলযোগ্য রায়ও সরকারের কাছ থেকে বাস্তবায়ন আদায় করতে না পারে — তাহলে অন্য যেকোনো অধিকার লঙ্ঘন, যেকোনো অনিয়ম, যেকোনো দুর্নীতির প্রশ্নে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা এমনিতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তখন আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে আদালত অবমাননা, রায়ের প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা, আর রাষ্ট্রের ভূমিকা — একটা জলাভূমির প্রশ্ন না, বাংলাদেশে বিচার বিভাগের বাস্তব কর্তৃত্বের প্রশ্ন।
যা এখনই বলা যায়, যা এখনও অপেক্ষায়
সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯ সালের রায় নিজেই যা প্রতিষ্ঠিত করেছে, তা আমরা এখনই বলতে পারি নিঃসংকোচে: জলাধার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন হয়েছে। আদালতের নির্দেশ ছয় বছরেও মানা হয়নি। নাম বদলে রায় এড়ানোর চেষ্টা হয়েছে, খোদ রাজউক চেয়ারম্যানের ভাষায়। আর মামলা বিচারাধীন অবস্থাতেই প্রকল্প সম্প্রসারিত হয়েছে।
কিন্তু কোন রিসোর্টের লাইসেন্স আসলে বৈধ, কোন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ সংযোগ বাঁচাতে ফোন করেছিলেন, হাজি আব্দুল বাতেনের মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, রিসোর্টগুলোর প্রকৃত আয়তন ও নির্মাণ-ব্যয় কত — এসব আমরা এখনও জানি না। জানব, যখন এই ১৪টা দপ্তর জবাব দেবে, এবং যখন মাঠ-পর্যায়ের জরিপ সম্পন্ন হবে।
এই প্রতিবেদনই Bengal Gazette-এর পরবর্তী ভিডিও প্রতিবেদনের ভিত্তি — ভিডিওতে যা দেখানো হবে, তার প্রতিটা দাবিই এখানে লিখিতভাবে, সূত্রসহ প্রতিষ্ঠিত। প্রতিবেদনটি ধারাবাহিকভাবে হালনাগাদ হবে RTI জবাব, মাঠ-অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী।
Bengal Gazette রেফারেন্স: DGM/RTI/GAZETTE/2026/001-014
পরিশিষ্ট — ভিডিও প্রতিবেদনের জন্য বিশেষজ্ঞ ও পদ্ধতি
বিশেষজ্ঞের ধরন (ভূমিকা অনুযায়ী, নাম পরে চূড়ান্ত হবে):
| বিশেষজ্ঞের ধরন | কী ব্যাখ্যা করবেন |
|---|---|
| হাইড্রোলজিস্ট / পানি সম্পদ প্রকৌশলী | বন্যা-প্রবাহ অঞ্চল কী, ভরাট হলে আশপাশের এলাকায় কী প্রভাব পড়ে |
| নগর পরিকল্পনাবিদ | DAP ও রাজউকের জোনিং ব্যবস্থা, চিহ্নিত এলাকা তবুও কীভাবে নির্মিত হয় |
| ভূমি জরিপ বিশেষজ্ঞ | CS/SA/RS/BRS রেকর্ডের পার্থক্য পড়া, প্লট মালিকদের দাবি যাচাই |
| রিমোট সেন্সিং/GIS বিশেষজ্ঞ | স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ, NDVI/জলাশয়-সূচক ব্যাখ্যা |
| স্বতন্ত্র পরিবেশ আইনজীবী (BELA-সংশ্লিষ্ট না) | আইনি প্রয়োগের কাঠামোগত ফাঁক নিয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন |
| সুশাসন/লোক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ | তিন সরকার জুড়ে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা |
ব্যবহৃত পদ্ধতি: 1. ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট টাইমল্যাপস (USGS Landsat ১৯৯৭-২০১০, ESA Sentinel-2 ২০১৫-বর্তমান) 2. NDVI/জলাশয়-সূচক বিশ্লেষণ — সবুজ/পানি থেকে নির্মিত কাঠামোয় রূপান্তর রঙ-কোডেড 3. ড্রোন শট — বর্তমান অবস্থা, ঐতিহাসিক মৌজা সীমানা GIS ওভারলে 4. DAP মানচিত্র ওভারলে — ফ্লাড-ফ্লো জোন সীমানার উপর বর্তমান নির্মাণ 5. নথি-ক্যামেরা শট — রায়ের আসল পাতা, RTI জবাব, মৌজা ম্যাপ 6. ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন — ১৪টা RTI দপ্তরের ইনফোগ্রাফিক, সময়রেখা অ্যানিমেশন 7. মাঠ-সাক্ষাৎকার — প্লট মালিক, সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয়রা
যাচাই ও তথ্য অধিকার আবেদনের রেফারেন্স
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতিটি তথ্য অধিকার আবেদন Bengal Gazette-এর নিজস্ব ক্রেডেনশিয়াল ভেরিফিকেশন সিস্টেমে নথিভুক্ত। প্রতিটি আবেদনের রেফারেন্স নম্বর নিচে দেওয়া হলো — চাইলে যে-কেউ verify.dgmpl.co.uk-এ গিয়ে সেই নম্বর ব্যবহার করে যাচাই করতে পারবেন যে আবেদনটি প্রকৃতপক্ষে দাখিল হয়েছে।
| রেফারেন্স নম্বর | প্রাপক সংস্থা |
|---|---|
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/001 | রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/002 | পরিবেশ অধিদপ্তর |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/003 | ভূমি মন্ত্রণালয় |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/004 | ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/005 | জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/006 | বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/007 | বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/008 | আপিল বিভাগ রেজিস্ট্রি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/009 | জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/010 | ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/011 | মৎস্য অধিদপ্তর |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/012 | ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/013 | সাভার মডেল থানা |
| DGM/RTI/GAZETTE/2026/014 | ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদ |
যাচাই পদ্ধতি: প্রতিটি আবেদন সরকারি “ফরম ক”-এ পূরণ করে, ডাক ও ই-মেইল উভয় মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধি অনুযায়ী। দাখিলের প্রমাণ (রসিদ/পাঠানোর তারিখ) Bengal Gazette-এর অভ্যন্তরীণ রেকর্ডে সংরক্ষিত এবং RTI জবাব প্রাপ্তির পর তা প্রকাশ্যে যুক্ত করা হবে।
সূত্র তালিকা
- [১, ৬] NewsG24, “আঁধার ঘনিয়ে এলো সাভারের ‘মধুমতি মডেল টাউনে’” — newsg24.com/bangladesh-news/192780
- [২] Dhaka Post — dhakapost.com/national/332180
- [৩] Dhaka Post — dhakapost.com/national/330503
- [৪] Jugantor — jugantor.com/country-news/894632
- [৫] Banijjo Protidin — banijjoprotidin.com/archives/331253
- [৭] DBC News — dbcnews.tv/news/15cc13e0e1612b
- [৮] The Daily Star Bangla — bangla.thedailystar.net/node/197713
- [৯] Kalbela — kalbela.com/ajkerpatrika/lastpage/149666
- [১০] Daily Bhorer Dak — dailybhorerdak.com/news/247072
- [১১] Dhaka Tribune, Gozairar Beel order — dhakatribune.com/bangladesh/court/342094
- [১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭] Prothom Alo, উইকিপিডিয়া (১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬), MOEF/MOWR সরকারি ওয়েবসাইট
- [১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩] Chayabithi, Kollol, Rajmohol, Jatra Jiyon, Lakeview — নিজস্ব ওয়েবসাইট/Facebook/বুকিং প্ল্যাটফর্ম
- [২৪, ২৫] BELA — belabangla.org/what-we-do/public-interest-litigations-pils, /legal-cell/judgements-list
- [২৬] NTV Online, FT বাংলা — প্লট মালিক সমিতির বক্তব্য (সুজাউদ্দিন আহম্মদ)
- [২৭] Reportbd.net — সাভার এলাকার মৌজা রেট (প্রতিবেশী মৌজা, প্রক্সি হিসাব)
- [২৮] Climate Court News, “BELA Secures Grant” — সুইডেন দূতাবাসের অনুদান সংক্রান্ত
- [২৯] পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (POBA) ওয়েবসাইট — pobabd.org
- [৩০] Bangladesh Poribesh Andolon (BAPA) ওয়েবসাইট — bapa.org.bd
- [৩১] BAPA প্রেস রিলিজ আর্কাইভ (bapa.org.bd) — পর্যালোচিত, মধুমতি সংক্রান্ত কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি
- [৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫] Jugantor, bnpbd.org — বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা
- [৩৬, ৩৭] BD Pratidin, বাংলাদেশ প্রতিদিন, Prothom Alo — মন্ত্রিসভা দপ্তর বণ্টন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পদ্ধতি: এই প্রতিবেদনের প্রতিটি দাবি আদালতের সার্টিফায়েড নথি, তথ্য অধিকার আইনে দাখিলকৃত আবেদন, অথবা রাইট টু রিপ্লাই-এর মাধ্যমে সংগৃহীত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। যেখানে তথ্য এখনও যাচাইাধীন, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশোধনী নীতি: এই প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে হালনাগাদ হবে। তথ্যগত ভুল থাকলে জানান — right to reply ট্র্যাকার বা সম্পাদকীয় ইমেইলে।
কপিরাইট নোটিশ:
© ২০২৬ Bengal Gazette। কোম্পানি নং ১৭২৪৩৩৫৪ (ইংল্যান্ড ও ওয়েলস) · । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
এই প্রতিবেদনের কোনো অংশ — লেখা, তথ্য-উপস্থাপনা, বা গবেষণা — Bengal Gazette-এর লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মাধ্যমে (প্রিন্ট, অনলাইন, সম্প্রচার, বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) পুনঃপ্রকাশ, পুনঃবিতরণ, বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সাংবাদিকতার স্বীকৃত রীতিতে (fair dealing), সরাসরি সূত্র উল্লেখ ও এই প্রতিবেদনের লিংকসহ, অনুমোদিত।
পুনঃপ্রকাশ, সিন্ডিকেশন বা লাইসেন্সিং সংক্রান্ত অনুরোধের জন্য: licensing@bengalgazette.asia
English:
© 2026 Bengal Gazette. Company No. 17243354 (England & Wales) · All rights reserved. No part of this report may be reproduced, redistributed, or commercially used without prior written permission. Brief quotation with attribution and a link is permitted under fair dealing. Licensing inquiries: licensing@bengalgazette.asia

