Human Rightsআইনি সংস্কার 📍 Bangladesh

আইনের আলো ও নীরবতার অন্ধকার: আইন বদলেছে, থানার চৌকাঠ কি বদলেছে?

রামিসা আক্তারের মামলার রায় এসেছিল উনিশ দিনে। একই সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জের পাঁচ কিশোরের ঘটনা গিয়েছিল সালিশে। এই পার্থক্য এখন আইনে মুছে গেছে — কিন্তু থানার চৌকাঠে এখনো না।

২০২৬ সালের মে মাস। ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। তার শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর খুব দ্রুত মামলা, তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন ও বিচার এগিয়ে যায়। ঘটনা থেকে মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আসে বিচারিক আদালতের রায়। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থার পরিচিত গতির পাশে ১৯ দিন বিস্ময়কর।

কিন্তু এই ঘটনার কয়েক মাস আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কওমি মাদ্রাসায় পাঁচ কিশোর শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সেই অভিযোগ আদালতের পথে যাওয়ার আগেই স্থানীয় সালিশ পর্যন্ত গড়ায়। এক পাশে ১৯ দিনে বিচারিক আদালতের রায়, অন্য পাশে পাঁচ শিশুর অভিযোগে প্রশ্ন থেকে যায়—তারা থানার চৌকাঠই ঠিকমতো পার হতে পেরেছিল কি না।

এই দুই ঘটনার মাঝখানে শুধু বিচারের গতির পার্থক্য নেই। আরও মৌলিক একটি প্রশ্ন আছে: একটি শিশু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়টি বুঝতে পারার পর কোথায় বলবে, কে তার কথা বিশ্বাস করবে এবং কে তাকে আইনের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেবে? এই প্রশ্নের গভীরতা বুঝতে হলে আমাদের প্রায় দেড় শ বছর পেছনে যেতে হবে।

১৮৬০ সালের ঔপনিবেশিক দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় লেখা হয়েছিল—

“Whoever voluntarily has carnal intercourse against the order of nature with any man, woman or animal…”

পুরুষ, নারী অথবা পশু—একই বাক্যে।

দেড় শ বছরের বেশি সময় ধরে ছেলে শিশুর ওপর সংঘটিত একধরনের ভয়াবহ যৌন সহিংসতার বিচারও খুঁজতে হয়েছে এই ‘অপ্রাকৃতিক অপরাধ’ বা Unnatural Offences-এর আইনি কাঠামোর মধ্যে। আইন ছেলে শিশুকে পশু বলেছে—বিষয়টি তা নয়। কিন্তু অস্বস্তিকর সত্যটি হলো, একটি ছেলে শিশুর ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার বিচার খুঁজতে হয়েছে এমন একটি ঔপনিবেশিক ধারায়, যেখানে একই বাক্যে মানুষ ও পশুর কথা ছিল; অথচ তার ওপর সংঘটিত অপরাধটিকে ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার স্পষ্ট পথ ছিল না। একটি মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হলে আইন যে নামে অপরাধটিকে চিনত, একই ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার একটি ছেলে শিশুকে সেই একই নামে চিনত না।

দেড় শ বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশ সেই জায়গাটি বদলেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনে ‘বলাৎকার’-এর সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৯ ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—

“এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘ধর্ষণ’ অর্থে বলাৎকারও অন্তর্ভুক্ত হইবে।”

সংশোধিত ৯(১) ধারায় ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড; এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। তদন্ত বা বিচার চলাকালে নারী বা শিশু এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপযুক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে। অর্থাৎ দেড় শ বছরের একটি বড় আইনি ঘাটতি অন্তত কাগজে দূর হয়েছে। আইন এখন সেই ছেলে শিশুটিকেও চিনতে শুরু করেছে।

কিন্তু মূল পরীক্ষা শুরু এখানেই। আইন শিশুটিকে চিনলেই যথেষ্ট নয়। শিশুটিকেও জানতে হবে—তার সঙ্গে অন্যায় হলে বলার জায়গা আছে, তার কথা শোনার মানুষ আছে এবং রাষ্ট্রের আইনে তার জন্য একটি পথ আছে। আর যে শিশুর জন্য আইনটি তৈরি, সে যদি সেই পথে প্রবেশই করতে না পারে, তবে কাগজে থাকা আইনের পরিবর্তন তার জীবনে পৌঁছাবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্তত ২৫টি প্রকাশিত শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অভিযোগ আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর তদন্ত ও বিচার পেরিয়ে সাজা পর্যন্ত পৌঁছানোর একাধিক নজির আছে। কক্সবাজারের রামুর একটি ঘটনায় ২০১৭ সালে মামলা হওয়ার পর ২০২০ সালে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। ঢাকার দক্ষিণখানের একটি ঘটনায় ২০১৯ সালের অপরাধের বিচার শেষ হয় ২০২৩ সালে; সেখানেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একটি মামলায় ২০২০ সালে মামলা হওয়ার পর চার শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ২০২৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। কিন্তু তার আগে শিশুটিকে সেই বিচারিক পথে পৌঁছাতে হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জের পাঁচ শিশুর ঘটনা এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচ আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগও আসে। টাকার অঙ্ক নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে অমিল রয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। একজন মধ্যস্থতাকারী দাবি করেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তা অস্বীকার করে বলেছেন, পরিবার থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি। মূল নথি বা বিচারিক প্রমাণের নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া কোন বক্তব্যটি সঠিক, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তবে ঘটনাটি একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। পাঁচ শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল, আইন আছে, অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও শাস্তির বিধানও বিদ্যমান। তারপরও অভিযোগ যদি আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনে আটকে যায়, তবে আইন শিশুটিকে রক্ষা করবে কীভাবে? শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে ঘরোয়া বা বেসরকারি আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে অপরাধ বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প বানানোর সুযোগ রাখা উচিত নয়। এখন আর শুধু নতুন আইন চাওয়ার সময় নয়; আইন হয়েছে, এখন শিশুকে সেই আইনি পথে আনতে হবে। আর একবার সে পথে এলে পথটিকেও পরিষ্কার রাখতে হবে।

রামিসার ঘটনা এই প্রশ্নটির অন্য দিক দেখায়। তার মামলায় রাষ্ট্রযন্ত্র খুব দ্রুত সক্রিয় হয়েছিল। এটি দেখায়, রাষ্ট্রের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু একটি শিশুর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কি ঘটনার ব্যাপক আলোচনার ওপর নির্ভর করবে?

আবার উল্টো দিকের বিপদও আছে। ১৯ দিনে বিচারিক আদালতের রায় হয়েছে বলেই ১৯ দিনকে ন্যায়বিচারের আদর্শ সময় বানিয়ে ফেলা যাবে না। দ্রুত বিচার প্রয়োজন, কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ না করে অতি-তড়িঘড়ি বিচার নয়—প্রমাণভিত্তিক সঠিক বিচার প্রয়োজন।

২০১৯ সালের ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার পরবর্তী বিচারিক ইতিহাস এই জায়গায় আমাদের সতর্ক করে। বিচারিক আদালত ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, চারজনের সাজা যাবজ্জীবনে পরিবর্তন করেন এবং ১০ জনকে খালাস দেন। একটি বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক ফল উচ্চ আদালতে এতটা পরিবর্তিত হওয়ার চিত্রই মনে করিয়ে দেয়—প্রত্যেক অভিযুক্তের দায় শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতেই আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়।

অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়। সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম আদালতের রায় নয়। জনরোষও ফরেনসিক প্রমাণের বিকল্প নয়। তাই আমাদের ১৯ দিনের বিচারকে নিয়ম বানানোর দরকার নেই। আবার একটি শিশুকে বছরের পর বছর বিচারিক নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলিয়ে রাখাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমাদের দরকার আইনকে তার স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক পথে চলতে দেওয়া।

অভিযোগ আসবে, পুলিশ তা এজাহারভুক্ত করবে, তদন্ত হবে, চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ হবে, সাক্ষ্য যাচাই হবে, প্রসিকিউশন প্রমাণ উপস্থাপন করবে, অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন, ট্রাইব্যুনাল আইন ও প্রমাণ দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করবেন।

এই পথে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক দরজা পুলিশ। নতুন আইনে ছেলে শিশুর বলাৎকার যে ধর্ষণের আওতাভুক্ত, সেটি শুধু বিচারক ও আইনজীবীর জানলে হবে না; থানার ওসি থেকে ডিউটি অফিসার পর্যন্ত জানতে হবে। কোনো পরিবার অভিযোগ নিয়ে গেলে তাকে লোকলজ্জা কিংবা স্থানীয় সালিশের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

একই সঙ্গে সংশোধিত আইনের ৩২ক ধারায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা এবং ধর্ষণসংক্রান্ত নমুনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা করে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে ফলাফল দেওয়ার যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে বিজ্ঞানসম্মত তদন্ত, ফরেনসিক আলামত ও ডিজিটাল প্রমাণ পেশাদারত্বের সঙ্গে সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ দুর্বল তদন্তের ক্ষতি দুই দিকেই হয়—অপরাধী পার পেতে পারে, আবার নির্দোষ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারে।

মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল ও আবাসিক হোস্টেলেরও এই পথে দায়িত্ব রয়েছে। একটি শিশু কার কাছে নিরাপদে অভিযোগ করবে, অভিযোগ পেলে প্রতিষ্ঠান কী করবে এবং কখন পুলিশকে জানাবে—এসব সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট থাকতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথাকথিত সুনাম রক্ষার চেষ্টা শিশুর সুরক্ষার চেয়ে বড় হতে পারে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃত্বের কাজও অভিযোগকে সালিশে আটকে রাখা নয়; তাদের দায়িত্ব পরিবারকে আইনি পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সেই প্রাতিষ্ঠানিক পথে পৌঁছে দেওয়া।

তবে এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি হলো শিশু নিজে। কারণ থানার চৌকাঠে পৌঁছানোরও আগে আরেকটি চৌকাঠ আছে—শিশুটির নিজের নীরবতা ভেঙে প্রথমবার কাউকে বলা।

আমরা শিশুদের ভালো-মন্দ ও নৈতিকতা শেখাই। কিন্তু নিজের শরীরের নিরাপত্তা, অনুচিত আচরণ চিনতে পারা, ভয় না পেয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে বলা এবং রাষ্ট্র যে তাকে সুরক্ষা দেয়—এসবও বয়স উপযোগী শিক্ষার অংশ হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষাক্রমে এই সুরক্ষা পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। শিশুকে আইনের ধারা মুখস্থ করাতে হবে না; তাকে জানতে হবে, অন্যায় হলে চুপ থাকা তার দায়িত্ব নয়। তার কথা শোনার দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ও রাষ্ট্রের।

একটি শিশু যদি সাহস করে বলেও দেখে কেউ তাকে বিশ্বাস করছে না, প্রতিষ্ঠান সুনাম রক্ষায় ঘটনা চাপা দিচ্ছে অথবা পরিবার লোকলজ্জার ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে, তাহলে থানার দরজা খোলা থাকলেও সেই শিশু সেখানে পৌঁছাবে না। তাই আইনের পথ শুধু থানায় শুরু হয় না। তারও আগে শুরু হয় শিশুর কথা বিশ্বাস করা থেকে। শিশু যদি শুরু থেকেই জানে যে বলার জায়গা আছে, আর বড়রা যদি জানেন সেই কথা শোনার পর কোথায় যেতে হবে, তবেই নীরবতার যে প্রাচীর অপরাধীকে আড়াল করে রাখে, তা দুর্বল হতে শুরু করবে।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রকাশহীন ঘটনা সামনে এনে রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করানো সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু বিচারে প্রমাণের আগেই অভিযুক্তকে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া কিংবা ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। সংবাদমাধ্যম বিচার করবে না; সংবাদমাধ্যম দেখবে বিচার পাওয়ার পথটি খোলা আছে কি না।

আর সেই পথ খোলার পর অভিযোগ থেকে তদন্ত, অভিযোগপত্র, বিচার ও রায় পর্যন্ত পুরো যাত্রাটি যেন হারিয়ে না যায়, রাষ্ট্রকে তার হিসাব রাখতে হবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ ব্যবহার করে মামলা প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক অগ্রগতি ও তথ্যের স্বচ্ছতা চাইতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যদি অনুসন্ধানে দেখা যায় প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা বা বেআইনি সমঝোতার কারণে শিশুদের এই সংবিধিবদ্ধ সুরক্ষা বাস্তবে ব্যাহত হওয়ার ধারাবাহিক প্রমাণ রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তা ও শিশু অধিকার সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের কাছে উপযুক্ত বিচারিক প্রতিকার চাইতে পারে।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেড় শ বছরের বেশি সময় পর ছেলে শিশুর ওপর সংঘটিত বলাৎকারকে ধর্ষণের আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এখন ছেলে না মেয়ে—এই প্রশ্নটি শিশুর সুরক্ষার সামনে প্রাচীর হওয়ার কথা নয়। শিশু মানেই শিশু। আইনের সুরক্ষাও তার জন্য সমান হওয়ার কথা।

কিন্তু আইনে একটি শিশুকে স্বীকৃতি দেওয়া আর সেই সুরক্ষা তার কাছে পৌঁছে দেওয়া এক বিষয় নয়। এখন শুধু আরও কঠোর শাস্তির স্লোগান দিলেই হবে না। আইন আছে, তদন্তের পথ আছে, ট্রাইব্যুনাল আছে, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাও রয়েছে। এখন মূল কাজ হলো সেই পথটি প্রতিটি শিশুর জন্য চেনা, নিরাপদ ও উন্মুক্ত করা।

রামিসার ঘটনা দেখিয়েছে, রাষ্ট্র দ্রুত কাজ করতে পারে। সিদ্ধিরগঞ্জের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, সাধারণ শিশুর জন্য সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের দরজায় পৌঁছানোই এখনো সবচেয়ে কঠিন কাজ। দেড় শ বছরের আইনি বৈষম্যের একটি দরজা বন্ধ হয়েছে। এখন থানার দরজাটি খুলতে হবে। তারও আগে খুলতে হবে আরেকটি দরজা—একটি শিশু যখন প্রথমবার বলে, “আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে”, তখন যেন কেউ তার কথা শোনে।

এমন একটি পথ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিশু শুরু থেকেই জানবে—তার সঙ্গে অন্যায় হলে বলার জায়গা আছে, তার কথা বিশ্বাস করার মানুষ আছে, যাওয়ার পথ আছে এবং সেই পথের শেষে এমন একটি আইন আছে, যা তাকে ছেলে বা মেয়ে হিসেবে নয়, প্রথমে শিশু হিসেবে দেখে। আইন এখন শিশুটিকে চিনেছে। এখন শিশুটিও যেন জানে—আইন তাকে চেনে।

ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য তাকে ভাইরালে পরিণত হতে হবে না। আবার কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনরোষ যথেষ্ট নয়। মাঝখানে থাকবে আইন। আইন প্রমাণের ওপর ভর করে চলবে। এবং সেই একই আইন প্রতিটি শিশুর জন্য সমানভাবে কাজ করবে।

সংশোধনী নীতি: তথ্যগত ভুল থাকলে জানান — right to reply ট্র্যাকার বা সম্পাদকীয় ইমেইলে।


Editorial & Legal Note

​This report represents a structural pattern analysis derived exclusively from secondary media monitoring, open-source intelligence (OSINT), and previously published media articles. It does not constitute a primary ground investigation, nor does it make independent allegations of wrongdoing against any specific individual, local authority, or law enforcement agency.

​Detailed primary investigations—including formal Right to Information (RTI) inquiries to relevant authorities and official Right of Reply opportunities for law enforcement and named parties—are currently in progress. A comprehensive field-verified investigative report will be published in the subsequent phase.

​Bengal Gazette operates under the laws of England and Wales. This analytical synthesis is published strictly in the public interest, invoking the journalistic exemptions of the UK GDPR / Data Protection Act 2018 and the public interest defense under Section 4 of the Defamation Act 2013.


কপিরাইট নোটিশ:

© ২০২৬ Bengal Gazette | কোম্পানি নং ১৭২৪৩৩৫৪ (ইংল্যান্ড ও ওয়েলস) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই প্রতিবেদনের কোনো অংশ — লেখা, তথ্য-উপস্থাপনা, বা গবেষণা — Bengal Gazette-এর লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মাধ্যমে (প্রিন্ট, অনলাইন, সম্প্রচার, বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) পুনঃপ্রকাশ, পুনঃবিতরণ, বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সাংবাদিকতার স্বীকৃত রীতিতে (fair dealing), সরাসরি সূত্র উল্লেখ ও এই প্রতিবেদনের লিংকসহ অনুমোদিত।

পুনঃপ্রকাশ, সিন্ডিকেশন বা লাইসেন্সিং সংক্রান্ত অনুরোধের জন্য: licensing@bengalgazette.asia

Share: X / Twitter Facebook LinkedIn
Related Investigations